what-is-facebook-marketing-bangla

Facebook Marketing কি এবং কাকে বলে? কিভাবে ফেইসবুক মার্কেটিং করবেন?

ফেইসবুক মার্কেটিং হলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি স্বতন্ত্র শাখা। ফেইসবুক বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। তাই ফেইসবুকে মার্কেটিং করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গ্রাহকের নিকট নিজের পন্য/ সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পৌছে দেয়া সম্ভব। পৃথিবী দিনে দিনে ডিজিটালাইজড হচ্ছে । এক সময় বেশির ভাগ মার্কেটিং করা হতো লিফলেট, ব্যানার, পোস্টার, টেলিভিশন ও রেডিও  বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে । কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিংটাই বেশি করা হয়। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবসার ধরন ডিজিটাল প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা বিশেষ প্রয়োজন । এর ব্যতিক্রম হলে এই প্রচন্ড প্রতিযোগীতার ময়দানে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব । আমরা এমন অনেক প্রতিষ্ঠানকেই জানি যারা এক সময় দুর্দান্ত ব্যবসা করে গেছে কিন্তু পরবর্তিতে পারিপাশ্বিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে নিতে না পারায় ব্যবসা দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাই আপনার যেকোনো ব্যবসার চাকা সচল রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান রাখতে হবে।

মার্কেটিং কি? 

কোনোরুপ কেতাবি সংজ্ঞায় না গিয়ে বলা যায়, আপনার পণ্য বা সেবা  টার্গেট অডিয়েন্সকে  জানানোর জন্যে যা কিছু করবেন তার সবই মার্কেটিং। এটি একটি গবেষনা ও প্রচারনামূলক কার্যক্রম। যত বেশি মার্কেট এনালাইসিস করতে পারবেন ও প্রচারনা চালাতে পারবেন ততবেশি গ্রাহক পাবেন।

 মার্কেটিং কত প্রকার? কি কি?

মার্কেটিং অনেক রকম হতে পারে আমরা বিশেষ করে এর ২টি প্রকার উল্লেখ করতে পারি যার প্রথমটি অফলাইন মার্কেটিং দ্বিতীয়টি ডিজিটাল মার্কেটিং। ইন্টারনেট ব্যবহার না করে আমরা যে ধরনের মার্কেটিং করি সেটি অফলাইন মার্কেটিং।

যেমন: ধরুন আপনি কোনো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে পণ্যের লিফলেট বিতরন করলে কিংবা বিলবোর্ড, ব্যানার লাগালে সেটি হবে অফলাইন মার্কেটিং।

ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে যে ধরনের মার্কেটিং করা হয় সেটি হলো ডিজিটাল মার্কেটিং। এই প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো ফেইসবুক মার্কেটিং (facebook marketing).

ফেইসবুক মার্কেটিং কি?

ফেইসবুক ব্যবহার করে আমরা যখন কোনো সেবা বা পণ্যকে ইউজারকারীদের নিকট তুলে ধরি তখন সেটিকে ফেইসবুক মার্কেটিং বলে । সোস্যাল প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে ফেইসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং এর ইউজার সংখ্যা সর্বোচ্চ। বর্তমানে ফেইসবুকের প্রায় ২.৮৯ বিলিয়ন এক্টিভ ইউজার রয়েছে । যার মধ্যে বাংলাদেশেই এই সংখ্যা প্রায় তিন কোটি আশি লাখ। এক সময় ফেইসবুক মার্কেটিং এর খুব একটা প্রচলন না থাকলেও এখন আমাদের দেশে ফেইসবুক মার্কেটিং খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফেইসবুক চালানোর সময় বিভিন্ন কোম্পানি/ প্রতিষ্ঠানের পেইড বিজ্ঞাপনগুলো  আমাদের কাছে চলে আসে প্রায়শই। 

১. ফেইসবুক এডস

২. ফেইসবুক মার্কেটপ্লেইস

৩. ফেইসবুক গ্রুপ 

৪. বিজনের পেইজ

ফেইসবুকের এই চারটি টুলস ব্যবহার করে ফেইসবুক মার্কেটিং করা হয়। 

ফেইসবুক মার্কেটিং কত প্রকার? 

ফেইসবুক মার্কেটিং ২ প্রকার । ফ্রী ফেইসবুক মার্কেটিং ও পেইড ফেইসবুক মার্কেটিং ।

ফ্রি ফেইসবুক মার্কেটিং

যে ধরনের মার্কেটিং এ আমাদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না সেগুলোই ফ্রী মার্কেটিং । অফলাইনে  একেবারে ফ্রী তে তেমন কোনো মার্কেটিং সুবিধা না থাকলেও অনলাইনে ফ্রী মার্কেটিং করেও ভালো গ্রাহক পাওয়া সম্ভব। ফেইসবুকে আমরা যেসব মার্কেটিং করার সময় টাকা খরচ করতে হয় না সেসব মার্কেটিং ই ফ্রী ফেইসবুক মার্কেটিং। যেমন আপনি যদি ফেইসবুকে ভালো সেইলিং গ্রুপ তৈরি করতে পারেন বা ভালো বিজনেস পেইজ তৈরি করতে পারেন যেগুলো ব্যবহার করতে আপনাকে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষকে কোনো অর্থ দিতে হয় না সেগুলোর মাধ্যমেও কিন্তু আপনি অনেক কাস্টমার পেতে পারেন। এছাড়া ফেইসবুক মার্কেটপ্লেইস নামে যে ফিচারটি রয়েছে এখানে চাইলেই আপনি আপনার পণ্য বা সেবাগুলো এন্ট্রি করে রাখতে পারেন এবং কোনো খরচ ছাড়াই কাস্টমার পেতে পারেন। ফেইসবুক কোনো খরচ না করেই ব্যবসা করার এই সুযোগগুলো দিয়ে রেখেছে।

পেইড ফেইসবুক মার্কেটিং

এতক্ষনে হয়তো বুঝতেই পারছেন  পেইড ফেইসবুক মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে খরচাপাতি করতে হবে। আপনি ফেইসবুক কর্তৃপক্ষকে পে করবেন তারা আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য একেবারে টার্গেট করে করে নির্দিষ্ট ইউজারদের নিকট পৌছে দেবে। ছোট হউক বা বড় যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ই অর্থ ব্যয় করে এই মার্কেটিং করতে পারে এবং তাদের পণ্য বা সেবাকে উপযুক্ত ইউজারদের নিকট পৌছে দিতে পারে। ফেইসবুকের পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অল্প সময়ে অধিক গ্রাহক পাওয়া যায়। সঠিকভাবে পেইড বিজ্ঞাপন কন্টিনিউ করতে পারলে আশানুরুপ সেইল পাওয়া সম্ভব। 

যে কারনে ফেইসবুক মার্কেটিং করবেন

যেকোনো ধরনের মার্কেটিং এর মূল উদ্দ্যশ্যে থাকে পণ্য বা সেবাকে বেশি বেশি মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া।  আর এ ক্ষেত্রে যেহেতু ফেইসবুক সর্বাধিক মানুষ ব্যবহার করে এবং সেখান থেকে খুব সহজেই  নিজের টার্গেটেড অডিয়েন্সের নিকট পণ্য বা সেবা তুলে ধরা যায় তাহলে  কেন আমরা ফেইসবুক মার্কেটিং করব না। ফেইসবুকে ইতিমধ্যে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ব্যবসার মার্কেটিং হয়েছে। প্রায় ১.৮৮ বিলিয়ন ইউজার দৈনিক একবার হলেও ফেইসবুকে আসে। এবং মোট ব্যবহারকারীর প্রায় ১৭ পারসেন্ট বিভিন্ন প্রোডাক্ট বা বিজনেসের সম্পর্কে জানার জন্যে ফেইসবুকে আসে। এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্বের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৪৫ পারসেন্ট তাদের পছন্দের পণ্য কেনার জন্যে ফেইসবুক প্লাটফর্মকে বেছে নেয়। এখন এই যদি হয় অবস্থা তাহলে আপনি কেন আপনার বিজনেসকে ফেইসবুকে ইনভলব করবেন না। তাই নিজের ব্রান্ড ভেল্যু ক্রিয়েট করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ফেইসবুক মার্কেটিং করতে হবে। 

কিভাবে ফেইসবুক মার্কেটিং করা যায়?

আপনি নতুন হয়ে থাকলে এমন ভাবার কোনো কারন নেই যে ফেইসবুক মার্কেটিং খুব কঠিন কাজ, এটি আসলে খুবই সহজ । একটু দক্ষ হলে খুব সহজেই এটি করতে পারবেন। তো আপনাকে একেবারে নতুন ধরে নিয়েই সংক্ষেপে কিছু নির্দেশনা দেয়া হলোঃ 

আপনাকে প্রথমে একটি বিজনেস পেইজ খুলতে হবে আপনার পণ্য বা সেবার  ধরন  অনুযায়ী । পেইজ খোলা খুবই সহজ । সেটা নিজে নিজেই করতে পারবেন। পেইজ খোলার পর, পেইজের প্রোফাইল পিকচার ও কভার পিক দিবেন। ব্যবসার জন্যে একটি ইউনিক লোগো তৈরি করে নিবেন কোনো ডিজাইনার দিয়ে । এই লোগো আপনার ব্যবসার সকল কিছুতেই পরবর্তিতে থাকবে।

প্রোফাইল পিক ও কভার ফটোতে লোগো দিতে হবে এবং এগুলো এমন হবে যাতে লোকজন দেখে আকর্ষিত হয়। About us এই সেকশনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ । বিজনেসটি কি নিয়ে করছেন বা কোন ধরনের পণ্য এসব বিষয়গুলোকে সংক্ষেপে তুলে ধরুন। কাস্টমার যেন এই সেকশনটি পড়েই ধারনা পায় যে এটি কি ধরনের প্রতিষ্ঠান বা পণ্য কি। কাস্টমাইজ বাটনে send message অপশনটি চালু রাখতে পারেন।

পেইজের URL টি সংক্ষিপ্ত করে দিবেন যাতে সহজবোধ্য হয়। অনেক বড়  URL থাকলে সেটি দেখতেও দৃষ্টিকটু হয়। পেইজের ফলোয়ার অপশন চালু করুন। চাইলে পেইজ ভেরিফাইড করে নিতে পারেন। এতে গ্রাহকেরা আস্থা পাবে বেশি। পেইজে নিয়মিত পোস্ট করবেন। তবে অধিক সেল পোস্ট না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে পোস্ট করবেন। অতিরিক্ত সেইল পোস্ট অনেক সময় পেইজ ব্লক হওয়ার কারণ। বিভিন্ন বিষয়, দিবস এর পোস্ট করুন পেইজে। চোখ ধাধানো ডিজাইন করা ছবি আপ্লোড করুন, ভিডিও কন্টেন্টও তৈরি করে পেইজে দিতে পারেন।  এটি খুবই কার্যকর।

 ফেইসবুক পেইজের পাশাপাশি ফেইসবুকে একটি প্রাইভেট গ্রুপ ক্রিয়েট করুন।  আপনার গ্রাহকদের তাতে এড করুন। পেইজে শুধু আপনি নিজেই পণ্যের পোস্ট করেন সেখানে কাস্টমার পোস্ট করতে পারে না। কিন্তু গ্রুপে আপনি ও আপনার কাস্টমার সবাই

পোস্ট করতে পারবে। আপনার পণ্য যদি মানসম্মত ও রিজনেবল প্রাইসের মধ্যে থাকে, তাহলে গ্রুপে অনেকেই ভালো রিভিউ দিবে এবং সেসব রিভিউ দেখে অন্যরাও পণ্য কিনতে আগ্রহী হবে। তাই গ্রুপ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

ফেইসবুক থেকে কিভাবে আয় করা যায়?

ফেইসবুকেও ইউটিউব এর মতো ভিডিও আপ্লোড করে অর্থ আয় করার সুযোগ রয়েছে। গুগল এডসেন্স, ফেইসবুক এড ও স্পন্সরশীপ এই তিনটি খাতে ফেইসবুকে ইনকাম করা যায়। আপনার পেইজ যদি খুবই জনপ্রিয় হয় তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি আপনার কন্টেন্টে তাদের এড দিবে যার বিনিময়ে আপনাকে তারা পে করবে। ফেইসবুকে অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন ব্লগার, ফানি ভিডিও মেকাররা বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট এর কথা বলে তাদের ভিডিও’র শেষে। অথবা ডেসক্রিপশন বক্সে অন্য প্রতিষ্ঠান এর লিংক দেয় পণ্য ক্রয় করার জন্যে। 

ফেইসবুক থেকে আয় করার আরও বিস্তারিত আলোচনা করব আমাদের অন্য আর্টিকেলে সময় নিয়ে যারা এতটুকু পর্যন্ত পড়েছেন,তাদের নিকট আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি যারা অনলাইনে ব্যবসা করছেন বা করতে চাচ্ছেন এই আর্টিকেলটি তাদের উপকারে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Main Menu