মাথাব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়

মাথাব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়

 

মাথা ব্যথা খুবই সাধারন একটি সমস্যা। এমন ব্যক্তি খুজে পাওয়া কঠিন যিনি কখনো মাথা ব্যথায় ভুগেননি। মাথাব্যথা আসলে কোনো রোগ নয়, এটি অন্য কোনো রোগের লক্ষন। বেশিরভাগ মাথাব্যথা বড় কোনো কারন ছাড়াই হলেও কিছু কিছু ধরন মারাত্মক এমন কি জীবনসংশয় থাকতে পারে। তাই অবশ্যই মাথা ব্যথার কারন, মাথা ব্যথা হলে করনীয় কি এই বিষয়গুলো জানতে হবে এবং যার যার সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হবে।

 

মাথা ব্যথা কি?

মাথাব্যথা হলো ঘাড়, মাথা, মুখের ব্যথা। মূলত এই অঙ্গগুলোর ব্যথা মাথা ব্যথা সৃষ্টি করে। অনেক কারনে মাথাব্যথা হতে পারে। মাথাব্যথার ধরনও অনেকরকম। ইন্টারন্যাশনাল হেডেক সোসাইটি ১৫০প্রকার মাথা ব্যথার কথা উল্লেখ করেছে। যদিও এর বেশিরভাগই ক্ষতিকর নয়। 

চোখ, মুখ, কান, কান,নাক, সাইনাস, নার্ভ এই অর্গানগুলোর প্রদাহ-ই মাথা ব্যথা।

 

মাথা ব্যথার কারন

মাথাব্যথার অনেকগুলো কারণ হতে পারে যেমন, ডিহাইড্রেশন, ক্লান্তি, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ, ওষুধের প্রভাব, ভাইরাল সংক্রমণ, উচ্চ শব্দ, সাধারণ সর্দি, মাথায় আঘাত, খুব ঠান্ডা খাবার বা পানীয় দ্রুত গ্রহণ করা, এবং দাঁতের বা সাইনাসের সমস্যা (যেমন সাইনোসাইটিস)। তবে মাথা ব্যথার প্রধান কারন হিসেবে ধরা হয় মাইগ্রেন ও টেনশন। একটি জরিপে দেখা যায় শতকরা ৭০ভাগ মাথা ব্যথা হয় মানসিক চাপ বা টেনশন থেকে। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেক বছরে একবার হলেও মাথা ব্যথা অনুভব করে । টেনশনের মাথাব্যথা সবচেয়ে সাধারণ যা প্রায় 1.6 বিলিয়ন মানুষকে প্রভাবিত করে এবং আর মাইগ্রেনের মাথাব্যথা প্রায় 848 মিলিয়ন প্রভাবিত করে।

মেডিকেলের ভাষায় মাথা ব্যথাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক. Primary headache দুই. Secondary headache

 

Primary headache:

মাথা ব্যথার শতকরা ৯০ভাগ-ই হলো প্রাইমারি মাথাব্যথা। যখন মাথাব্যথা নিজেই প্রধান সমস্যা। এটি অভ্যন্তরীন কোনো রোগ বা অবস্থার কথা প্রকাশ করে না। এই ধরনের মাথাব্যথা অনেক বেশি হতে পারে, তবুও তা বিপজ্জনক নয়। মস্তিষ্ক ব্যথা অনুভব করতে পারে।  প্রাইমারি হেডেক এর সাথে সম্পর্কিত ব্যথা ঘাড় এবং মাথার চারপাশে সংবেদনশীল অংশগুলির প্রদাহ থেকে আসে, যার মধ্যে রয়েছে: স্নায়ু,রক্তনালী,পেশী ইত্যাদি। প্রাইমারী হেডেকের আবার কয়েকটা বিভাগ রয়েছে যেমনঃ মাইগ্রেন হেডেক, টেনশন হেডেক, হিপনিক হেডেক, ক্লাস্টার হেডেক।

 

টেনশন হেডেকঃ 

মাথাব্যথার সবচেয়ে কমন ধরন টেনশন হেডেক। ৭০ শতাংশ মাথা ব্যথার ধরন-ই এটা। টেনশনের মাথাব্যথা পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, উন্নত বিশ্বের প্রতি ২০ জনের মধ্যে ২জন প্রতিদিনের টেনশন হেডেকে ভোগেন। ক্লান্তি, অবসাদ, ঘুমে ব্যাঘাত এসব কারনে এই ধরনের মাথা ব্যথা হয়। এ ব্যথা খুব বেশি না হলেও অনেক সময় থাকে। হালকা থেকে মাঝারি তীব্রতা থাকে এ ধরনের ব্যথায়। 

 

মাইগ্রেন হেডেকঃ

মাথাব্যথার সাধারন ধরনগুলোর একটি মাইগ্রেন হেডেক। শতকরা ১১ ভাগ মাথাব্যথা-ই হয় মাইগ্রেনের কারনে। মাইগ্রেন সবচেয়ে খারাপ মাথা ব্যাথাগুলোর একটি। এই স্নায়বিক রোগটি দুর্বল থ্রবিং ব্যথার কারণ হতে পারে যা আপনাকে কয়েকদিন পর্যন্ত বিছানায় রেখে যেতে পারে। আলো, শব্দ এবং অন্যান্য ট্রিগারের কারণে ব্যথা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, চাক্ষুষ ব্যাঘাত, অসাড়তা এবং ঝিমঝিম, বিরক্তি, কথা বলতে অসুবিধা, অস্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং আরও অনেক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আমাদের দেশে অনেক মানুষ আছে যারা মাইগ্রেন হেডেকে আক্রান্ত। তাই মাইগ্রেন হেডেকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।

মাইগ্রেন হেডেক একেকজনের কাছে একেকরকম সিম্পটম দেখা দেয়। মোটামুটি এই লক্ষনগুলো চারটি স্টেজে ব্যাখ্যা করা যায়ঃ

 

প্রোড্রোম

এটি মূলত মাইগ্রেন হেডেক শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী সময়। মাথাব্যথা হওয়ার কয়েক ঘন্টা বা দিন আগে, প্রায় ৬০% লোকের এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়ঃ

  • আলো, শব্দ বা গন্ধের প্রতি সংবেদনশীল হওয়া
  • ক্লান্তি
  • ক্ষুধা না থাকা
  • মেজাজ পরিবর্তন
  • তীব্র তৃষ্ণা
  • ফোলা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া

 

 

অরা

এই লক্ষণগুলো রুগীর স্নায়ুতন্ত্র থেকে উদ্ভূত হয়। এগুলো বেশির ভাগই দৃষ্টিশক্তির সাথে জড়িত। এগুলো সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয় ৫থেকে ২০মিনিট সময়ের মধ্যে এবং এক ঘন্টারও কম সময় স্থায়ী হয়। 

কালো বিন্দু, তরঙ্গায়িত রেখা, আলোর ঝলকানি, সেখানে নেই এমন জিনিস দেখা (হ্যালুসিনেশন)

কোনো কিছুই না দেখা 

শরীরের একপাশে শিহরণ বা অসাড়তা

কথা বলতে সমস্যা

বাহু এবং পায়ে ভারী অনুভূত হওয়া

গন্ধ, স্বাদ বা স্পর্শে পরিবর্তন লক্ষ্য করা

 

 

এটাক

মাইগ্রেনের মাথাব্যথা প্রায়শই একটি সামান্য ব্যাথা হিসাবে শুরু হয় এবং থরথর করে মারাত্মক ব্যথায় পরিণত হয়। এটি সাধারণত শারীরিক কাজকর্ম করার সময় খারাপ হয়ে যায়। ব্যথা মাথার একপাশ থেকে অন্য দিকে যেতে পারে, মাথার সামনে হতে পারে, অথবা এটি সম্পূর্ণ মাথাকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রায় ৮০% মানুষের মাথাব্যথার সাথে বমি বমি ভাব বা বমি হয়। চেহারা ফ্যাকাশে এবং আড়ষ্ট অনুভব করা বা জ্ঞান হারানো। বেশিরভাগ মাইগ্রেনের মাথাব্যথা প্রায় 4 ঘন্টা স্থায়ী হয়, তবে গুরুতর মাথাব্যথা 3 দিনের বেশি হতে পারে। প্রতি মাসে দুই থেকে চারটি মাথাব্যথা হওয়া সাধারণ ব্যাপার। কিছু লোক প্রতি কয়েক দিনে মাইগ্রেনের মাথাব্যথা পেতে পারে, অন্যরা বছরে একবার বা দুবার করে। 

 

পোস্টড্রোম

এই পর্যায়টি মাথাব্যথার পর এক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ পর্যায়ে যেসব উপসর্গ থাকে তা হলোঃ

  • ক্লান্ত,খামখেয়ালী বোধ করা
  • অস্বাভাবিকভাবে সতেজ বা খুশি বোধ করা
  • পেশী ব্যথা বা দুর্বলতা
  • খাবারের ক্ষুধামন্দা।

 

 

মাইগ্রেনের কারন

মাইগ্রেনের মাথাব্যথার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে ধারনা করা হয় এটি মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীন গঠন, জিনগত সমস্যা হতে পারে। তবে বর্তমানে এ ব্যথার জন্যে মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুকে দায়ী করা হয়। এটি পিতামাতার মধ্যে থাকলে তা সন্তানের মধ্যে আসার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।  বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন মস্তিষ্কে রক্ত ​​প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে মাইগ্রেন হয়েছে। যেটি ব্যথার সৃষ্টি করে। তবে বর্তমানে ভাবা হচ্চে যে অতিরিক্ত সক্রিয় স্নায়ু কোষগুলো ট্রাইজেমিনাল নার্ভকে ট্রিগার করে এমন সংকেত পাঠালে মাইগ্রেন শুরু হতে পারে, যা মাথা এবং মুখকে অধিক সংবেদন দেয়। এটি শরীরকে সেরোটোনিন এবং ক্যালসিটোনিন জিন-সম্পর্কিত পেপটাইড এর মতো ক্যামিকেলগুলোকে  মুক্ত করে দেয় । এই ক্যামিকেলগুলো মস্তিষ্কের আস্তরণের রক্তনালীগুলোকে অধিক উদ্দীপিত করে ও ফুলিয়ে তোলে। এতে নিউরোট্রান্সমিটারগুলো প্রদাহ এবং ব্যথা সৃষ্টি করে।

 

মাইগ্রেনের রিস্ক ফ্যাক্টর

কিছু কিছু জিনিস মাইগ্রেনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে । এগুলো হলোঃ

জেন্ডারঃ  পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের তিনগুণ বেশি মাইগ্রেন হয়।

বয়সঃ সাধারনত ১০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে মাইগ্রেনের মাথাব্যথা শুরু হয়। একটা গবেষনায় দেখা গেছে মহিলারা বেশি মাইগ্রেনে আক্রান্ত হলেও তাদের বয়স ৫০ পার হবার পরে এটি কমে আসে অথবা পুরোপুরি চলে যায়।

ফ্যামিলি হিস্টোরিঃ মাইগ্রেনে আক্রান্ত পাঁচ জনের মধ্যে চারজন-ই পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে পেয়ে থাকেন। যদি পিতামাতার মধ্যে যেকোনো একজনের এই ধরনের মাথাব্যথার ইতিহাস থাকে, তবে তাদের সন্তানের তা হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% থাকে। যদি বাবা-মা উভয়েই তাদের থাকে, তবে ঝুঁকি ৭৫% পর্যন্ত বেড়ে যায়।

অন্যান্যঃ ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, ইন্সমোনিয়া এবং মৃগীরোগ থাকলে সহজেই মাইগ্রেনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

 

যে বিষয়গুলো মাইগ্রেনে আক্রান্তদের সমস্যা বাড়িয়ে তোলেঃ


যারা অলরেডি মাইগ্রেনে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে কিছু কিছু বিষয় লক্ষ্য করা যায় যা তাদের মাইগ্রেনের ব্যথাকে বাড়িয়ে দেয়। এগুলো হলোঃ

হরমোনে পরিবর্তনঃ

অনেক মহিলা লক্ষ্য করেন যে তাদের পিরিয়ডের আশেপাশে, তারা গর্ভবতী থাকাকালীন বা যখন তারা ডিম্বস্ফোটন হয় তখন তাদের মাথাব্যথা হয়। লক্ষণগুলো মেনোপজ, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপির সময়ও হতে পারে।

 

স্ট্রেসঃ

যখন আপনি চাপে থাকেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক কিছু রাসায়নিক ছেড়ে দেয় যা রক্তনালীতে পরিবর্তন ঘটায় এতে মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে।

 

খাবারঃ

কিছু খাবার এবং পানীয় যেমন পনির, অ্যালকোহল, এবং নাইট্রেট (পেপারোনি, হট ডগ এবং লাঞ্চমিটে) এবং মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (এমএসজি) ইত্যাদি মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ায়। 

 

ক্যাফেইনঃ

যদিও ক্যাফেইন সাময়িক মাথা ব্যথা কমানোর জন্যে ব্যবহৃত হয় তবুও মাইগ্রেনের ব্যথায় আক্রান্তদের ক্যাফেইন নেয়া উচিৎ নয়।

 

পরিবর্তিত আবহাওয়াঃ

ঝড়ো আবহাওয়া, ব্যারোমেট্রিক চাপের পরিবর্তন, প্রবল বাতাস, উচ্চতায় পরিবর্তন সবই মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে।

 

সেন্সেসঃ

উচ্চ শব্দ, উজ্জ্বল আলো, এবং তীব্র গন্ধ মাইগ্রেন শুরু করতে পারে।

 

 

মাইগ্রেনের চিকিৎসাঃ

মাইগ্রেনের মাথাব্যথার কোন প্রতিকার নেই। কিন্তু অনেক ওষুধ আছে যেগুলোর মাধ্যমে ব্যথা উপশম করা যায়।

 

পেইন রিলিফঃ  

মাইগ্রেনের মাথাব্যথা উপশম করার জন্যে কিছু ওটিসি মেডিসিন নেয়া যায়। এই ওষুধগুলো ভালোই কাজ করে। প্রধান উপাদানগুলো হল অ্যাসিটামিনোফেন, অ্যাসপিরিন, ক্যাফেইন এবং আইবুপ্রোফেন। রেয়ের সিন্ড্রোমের ঝুঁকির কারণে ১৯ বছরের কম বয়সী কাউকে কখনই অ্যাসপিরিন দেয়া যাবে না।  ওটিসি ব্যথার ওষুধ খাওয়ার সময়  সতর্ক থাকতে হবে, কারণ সেগুলো মাথাব্যথা বাড়াতে পারে। আপনি যদি এই মেডিসিনগুলো খুব বেশি ব্যবহার করেন তবে আপনি মাথাব্যথা রিবাউন্ড পেতে পারেন বা তাদের উপর নির্ভরশীল হতে পারেন। আপনি যদি সপ্তাহে ২ দিনের বেশি ওটিসি ব্যথা নিরাময়কারী ওষুধ খান তবে আপনার ডাক্তারের সাথে প্রেসক্রিপশনের ওষুধগুলো সম্পর্কে কথা বলুন যা আরও ভাল কাজ করতে পারে। তারা প্রেসক্রিপশনের ওষুধের পরামর্শ দিতে পারে যা আপনার মাইগ্রেনের ব্যথা শেষ করতে ভাল কাজ করতে পারে, ট্রিপটান সহ, সেইসাথে নতুন ডিটান এবং গেপ্যান্টস। তবে এগুলো আপনার জন্য সঠিক কিনা বা আপনি খেতে পারবেন কিনা তা কেবল আপনার ডাক্তার আপনাকে বলতে পারেন।

 

ট্রিপটানঃ

এ জাতীয় ঔষধগুলো এক থেকে দুই ঘন্টার মধ্যেই মাইগ্রেন ব্যথার উপশম করে। এই ওষুধগুলো মস্তিষ্কে রাসায়নিকের ভারসাম্য বজায় রাখে। উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যালমোট্রিপটান, ইলেট্রিপ্টান, সুমাট্রিপ্টান, রিজাট্রিপটান এবং জোলমিট্রিপটান । আমাদের দেশীয় নামে রিজামিগ, জোলিয়াম এসব নামে বাজারে এই ঔষধগুলো পাওয়া যায়। টাফনিল, ক্যাফেইনযুক্ত প্যারাসিটামল আমাদের দেশে মাথা ব্যথার ঔষধ হিসেবে খুবই পরিচিত ও জনপ্রিয়।

 

মাইগ্রেনের ঘরোয়া চিকিৎসাঃ

যখন মাইগ্রেনের ব্যথায় বাড়বে তখন ঘরে এই বিষয়গুলো চর্চা করবেনঃ  অন্ধকার, শব্দহীন ঘরে চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেয়া, আপনার কপালে একটি শীতল কম্প্রেস বা বরফের প্যাক রাখুন,প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা।

 

মাইগ্রেন প্রতিরোধের উপায়ঃ

  • মাইগ্রেন যেহেতু পরিপূর্ণ ভালো হয় না তাই এটিকে প্রতিরোধ করাটাই সবচেয়ে ভালো। উপসর্গ প্রতিরোধ করার জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো চেষ্টা করা যায়।
  • ট্রিগার চিহ্নিত করুন এবং এড়িয়ে চলুন। একটি ডায়েরিতে আপনার উপসর্গের প্যাটার্নগুলো ট্র্যাক করুন যাতে আপনি তাদের কারণ কী তা বুঝতে পারেন।
  • মানসিক চাপ সামলানো, ধ্যান, যোগব্যায়াম এবং ব্রেদিং এক্সারসাইজ এর মতো শিথিলকরণ কৌশলগুলো সাহায্য করতে পারে।
  • খাওয়ার সময়সূচী রেগুলার রাখা।
  • প্রচুর তরল পান করুন।

 

মাইগ্রেন কি নিরাময়যোগ্য?

মাইগ্রেন পরিপূর্ণভাবে ভালো হওয়ার নজির খুব একটা নেই। মাইগ্রেনের জন্য এখনও কোন প্রতিকার নেই। কিছু কিছু ঔষধ ব্যবহার করে ব্যথা উপশম করে রাখা হয়।

 

মাইগ্রেন কি মারাত্মক?

বেশিরভাগ মাইগ্রেন দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ হয় না।কদাচিৎ, আপনার মাইগ্রেনাস ইনফার্কশন নামক জটিলতা হতে পারে। মাইগ্রেন থাকার সময় স্ট্রোক হতে পারে। কিন্তু মাইগ্রেনের কারনে স্ট্রোক হয় এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

 

Secondary headache:

প্রাইমারি হেডেক খুব একটা উদ্বেগের না হলেও সেকেন্ডারি হেডেক যথেষ্ট চিন্তার। কারন এটি আসলে মস্তিষ্কের অন্য রোগগুলোকে নির্দেশ করে যেমন, স্ট্রোক, ব্রেইন টিউমার, সাইনুসাইটিস, সেরেব্রাল হেমোরেইজ ইত্যাদি। এই রোগগুলো প্রত্যেকটি এক সময় প্রানঘাতী হয়ে উঠতে পারে। মাথাব্যথার ধরনের উপর ভিত্তি করে প্রাইমারি হেডেক ও সেকেন্ডারি হেডেক আলাদাভাবে চেনা কঠিন তবে, চিকিৎসকগণ কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন যেমনঃ

 

  1. জীবনের প্রথম মাথাব্যথা।
  2. এখন পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে খারাপ মাথাব্যথা যা আগে কখনো এত তীব্র হয়নি।
  3. এটি কোনো পূর্ব সতর্কতা ও আনুষাঙ্গিক লক্ষন ছাড়াই খুব দ্রুত বেড়ে যায়।
  4. বয়স ৫ বছরের আগে বা ৫০ বছরের পরের মাথাব্যথা।
  5. ক্যান্সার, এইচআইভি থাকলে ব্যথা হতে পারে।

 

সেকেন্ডারি মাথাব্যথার কারন

 

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের মাথাব্যথা অন্য রোগের কারণে হয়। অন্য কথায়, এই মাথাব্যথা একটি উপসর্গ। এছাড়া আরও কিছু কারনঃ

 

  1. উচ্চ রক্তচাপ থাকা
  2. ব্রেইনে ইনফেকশন, সাইনাস ইনফেকশনের মতো সমস্যা
  3. মাথায় আঘাত পাওয়া
  4. রক্তনালীর সমস্যা

 

 

সেকেন্ডারি হেডেকের ধরনঃ

সেকেন্ডারি হেডেকের অনেক প্রকার থাকতে পারে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ

 

পোস্ট-ট্রমাটিক হেডেকঃ

এটি সাধারনত মাথায় আঘাত পাওয়ার ২-৩ দিনের মধ্যে শুরু হয়। এই ধরনের মাথাব্যথা কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে । মাথায় আঘাত পাওয়ার পর পরই অবশ্যই ডাক্তারের সরনাপন্ন হতে হবে। এক্ষেত্রে যে লক্ষনগুলো প্রকাশ পায় তা হলোঃ 

  • ব্যথা সময়ে সময়ে খুব খারাপ হয়
  • মাথাঘোরা
  • হালকা মাথাব্যথা
  • মনোযোগ দিতে সমস্যা
  • স্মৃতির সমস্যা
  • দ্রুত ক্লান্ত
  • বিরক্তিবোধ

 

 

রিবাউন্ডঃ

খুব বেশি সময় ধরে মাথাব্যথার ঔষধ খেলে, কিংবা অতিরিক্ত ঔষধ খেলে সেটিই অনেক সময় মাথা ব্যথার কারন হয়ে যায়।

 

থান্ডারক্লাপ হেডেকঃ 

এ ধরনের মাথাব্যথা হঠাৎ করেই আসে। লোকেরা প্রায়শই এটিকে জীবনের প্রথম সবচেয়ে খারাপ মাথাব্যথা বলে। এটি প্রায় 5 মিনিট স্থায়ী হয়, তারপর চলে যায়। এই ধরনের মাথাব্যথার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

 

  1. রক্তনালী ছিঁড়ে যাওয়া, ফেটে যাওয়া বা ব্লকেজ।
  2. মাথায় আঘাত
  3. হেমোরেজিক স্ট্রোক
  4. ইস্কেমিক স্ট্রোক
  5. মস্তিষ্কের চারপাশে সংকীর্ণ রক্তনালী
  6. স্ফীত রক্তনালী
  7. গর্ভাবস্থার শেষের দিকে রক্তচাপের পরিবর্তন।

 

রোগ নির্ণয়

ডাক্তারগন সাধারনত ব্রেইনের এক্স রে, এম আর আই, সিটি স্ক্যানিং এর মাধ্যমে মাথা ব্যথার ধরন ও কারন উদ্ঘাটন করেন।

 

ক্লাস্টার হেডেক

ক্লাস্টার হেডেক সাধারনত চোখের আশেপাশে হয়েই থাকে। এ ব্যথা খুব তীব্র আকার ধারন করে এবং কয়েক ঘন্টা স্থায়ী হয়। এ ধরনের মাথাব্যথায় চোখ লাল হয়ে চোখ দিয়ে পানি পড়ে। অনেক সময় মাথার ভেতরে শব্দ অনুভূত হয়। উজ্জ্বল আলো, তীব্র শব্দ এ ধরনের ব্যথা বাড়ায়। সাইনাসে প্রদাহ হলে এ ধরনের মাথা ব্যথা হয়।

 

মাথা ব্যথা দূর করার উপায়

যদিও রোগ হিসেবে মাথা ব্যথাকে আমরা তেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখিনা তবুও এটি আসলে প্রচন্ড কষ্টদায়ক। একটি জরিপে দেখা যায়, কেবল মাথা ব্যথা থাকার কারনে উন্নত বিশ্বে বহু মানুষকে প্রতিবছর চাকরি হারাতে হয়। ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী যেমন মাথা ব্যথার ঔষধ(matha bethar medicine) খেতে হবে তেমনি মানতে হবে বিভিন্ন নিয়ম কানুন। লেবু, লবঙ্গ, পান এগুলো মাথা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে সাথে প্রচুর পানি পান করা। 

 

মাথা ব্যথার দোয়াঃ

ইসলাম ধর্মে মাথা ব্যথার( matha betahr dua) সময় এই দোয়াটি পড়ার প্রচলন রয়েছে “লা ইউসাদ্দাউনা আনহা ওয়ালা ইয়ুংযিফুন”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Main Menu