এলোভেরার উপকারিতা ও এলোভেরা ব্যবহারের নিয়ম

এলোভেরা হলো এলো গাছের পাতার জেল। মানুষ ত্বকের চিকিৎসা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার জন্যে হাজার হাজার বছর ধরে এটি ব্যবহার করে আসছে। এলোভেরাকে দেশী নামে ঘৃতকুমারী বলা হয় । আর এই ঘৃতকুমারী আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রের অন্যতম উপাদান। ঢাকা শহরের রাস্তায় খুব সহজেই এলোভেরার  শরবত পাওয়া যায়। এটি পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি শরীরকে সতেজ করে তোলে। বর্তমান বিভিন্ন মেডিসিনের সহজলভ্যতার কারনে আমরা আমাদের এসব ঐতিহ্যগত চিকিৎসা পদ্ধতি প্রায় ভুলেই গিয়েছি। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হলেও এর পাশ্বপ্রতিক্রিয়াও কিন্তু কম নয়। অপরদিকে প্রাকৃতিক এসব চিকিৎসা পদ্ধতি অনেকটাই সাইড ইফেক্টমুক্ত। আজকের আর্টিকেলে আমরা সেরকম একটা প্রাকৃতিক উপাদান এলোভেরার উপকারিতা ও এলোভেরা ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

এলোভেরার পুষ্টি উপাদান

এলোভেরা পুষ্টি উপাদানে ভরপুর একটি গাছ। এই গাছটি উষ্ণমন্ডলীয় এলাকায় জন্মায় যা এক সময় আফ্রিকায় পাওয়া যেতো। কাটাযুক্ত ক্যাকটাস গাছের মতো দেখতে এই গাছটির উৎপত্তি প্রায় ৬০০০ বছর আগে প্রাচীন মিশরে। তখন থেকেই এটি নানারকম রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো। ঘৃতকুমারী এখন আমাদের দেশে খুব সহজলভ্য আর গাছটি আমাদের দেশে জন্মায়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে এটি বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে চাষ হয়। মানবদেহের জন্যে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রনসহ প্রায় ২০ রকমের খনিজ পাওয়া যায় এই এলোভেরা থেকে। এছাড়া প্রায় ২০টিরও বেশি এমাইনো এসিড পাওয়া যায় এই এলোভেরা থেকে। ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স,ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ইত্যাদি।  

 

এলোভেরার উপকারিতা

এলোভেরা তার উপকারী বৈশিষ্ট্যের জন্যে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বিখ্যাত হয়ে আছে। 

 

ব্রণ দূর করে

অ্যালোভেরা প্রাকৃতিকভাবে ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। ব্রনের চিকিৎসায় মানুষ নানা রকমের ক্রিম ব্যবহার করে। যেগুলোর প্রত্যেকটির কোনো না কোনো পাশ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে আপনার ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু এলোভেরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে আপনার ব্রন দূর করবে কোনো প্রকার সাইড ইফেক্ট ছাড়াই। জেরুজালেমের বিখ্যাত প্রকৃতিবিদ এটিকে ব্রনের চিকিৎসায় অনন্য ঔষধ বলে অভিহিত করেছেন। এলোভেরার প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেটা ব্রনের প্রদাহ ও ব্রনের দাগ দূর করে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে অ্যালোভেরা সরাসরি ব্রণের দাগ দূর করার জন্য প্রয়োগ করা উচিত নয়। গবেষণা অনুসারে, অ্যালোভেরার প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন E2 উৎপাদন কমানোর ক্ষমতা রয়েছে। এগুলো হলো লিপিড যা সেবেসিয়াস গ্রন্থিগুলোতে একটি প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, সেবেসিয়াস গ্রন্থিগু্লোতে যত কম প্রদাহ হবে ব্রনের উপদ্রব তত কম হবে। 

 

বুক জ্বালাপোড়া কমায়

আপনার যদি বুক জ্বালাপোড়া থাকে তাহলে এলোভেরার শরবত খেয়ে দেখেন আপনার তাৎক্ষনিক বুক জ্বালাপোড়া কমে যাবে। এটি প্রদাহের সাথে GERD এর লিঙ্কের কারণে হতে পারে। অ্যালোভেরার এন্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, সেইসাথে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-আলসার বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মানুষের  IBD (ইরিটেবল বাওয়েল ডিজিজ) রোগীদের উপর গবেষণা করে পাওয়া গেছে। গবেষনায় দেখা যায়, এলোভেরা সেবনের ফলে  GERD,IBS,আলসার এর রুগীদের মধ্যে যথেষ্ট উন্নতি দেখা গেছে। ট্রেডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন জার্নালে ডিসেম্বর ২০১৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষনায় দেখা যায়, অ্যালোভেরার নির্যাস এর তৈরি একটি সিরাপ গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) এর বেশ কয়েকটি উপসর্গ কমাতে পারে যার মধ্যে রয়েছে বুকজ্বালা, বেলচিং এবং বমি।

 

দাঁতের সমস্যা দূর করে

এলোভেরার অ্যান্টি-প্ল্যাক এবং অ্যান্টি-জিনজিভাইটিস বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আপনার মুখের স্বাস্থ্য উন্নত করার পাশাপাশি ডেন্টাল সমস্যা দূর করে। ৩৪৫জন ব্যক্তির উপর একটি গবেষনা করা হয় যেখানে ৩৪৫ জনকে ৩ ভাগে ভাগ করে ১১৫জন করে তিনটি গ্রুপ করা হয়। এই ৩ গ্রুপের প্রথম গ্রুপকে দেয়া হয় সাধারন মাউথওয়াশ যেখানে ক্লোরহেক্সিডিন গ্লুকোনেট, অন্যটায় দেয়া হয় ডিস্টিলড ওয়াটার বেইজড মাউথওয়াশ, শেষ গ্রুপটাকে দেয়া হয় এলোভেরার মাউথ ওয়াশ যেখানে ৩০ দিন পর দেখা যায় এলোভেরার মাউথওয়াশ অন্য মাউথওায়াশের মতোই মাড়ির রক্ত পড়া দূর করে। মুখে ছত্রাকের সংক্রমন দূর করে। এছাড়া এলোভেরার এন্টি ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য মুখের আলসার দূর করে। দাঁত শক্ত ও মজবুত করে।

 

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রন করে

বাংলাদেশে প্রতি ১১জন প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে  ১জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আমাদের দেশে ডায়াবেটিস এখন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। অ্যালোভেরা প্রিডায়াবেটিস এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণকে উন্নত করে। গবেষনায় দেখা যায় যারা একটানা অনেকদিন এলোভেরা শরবত বা সিরাপ গ্রহন করে তাদের ডায়াবেটিস অনেকাংশে কমে আসে। ওজন হ্রাস, একটি স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা, এবং শারীরিক পরিশ্রম ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গবেষকরা অনুমান করেছেন যে অ্যালোভেরার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টে গ্লুকোজ শোষণ এবং কম গ্লুকোজ উৎপাদন হ্রাস করার ক্ষমতার কারণে  ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রনে থাকে। অন্য একটি ক্লিনিকাল ট্রায়ালে দেখা গেছে যে দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন দুই টেবিল চামচ অ্যালোভেরার রস পান করা টাইপ 2 ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা আসলেই কমে যায় । এছাড়া এতে  অংশগ্রহণকারীদের ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও কমেছে । যা থেকে বুঝা যায় এলোভেরা রক্তের চর্বি পরিমানও কমায়।

 

ত্বকের যত্নে 

ত্বকের যত্নে এলোভেরার জেল এর উপকারিতা অনেক। ত্বকের খোস, ফাচড়া, চুলকানি দূর করতে এলোভেরা জেল ভূমিকা রাখে । এছাড়া এই জেল ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। ময়শ্চারাইজার থেকে ফেস মাস্ক ত্বকের যত্নের  যত রকমের পণ্য আছে তাঁর প্রায় সব পণ্যতেই  এলোভেরা একটি উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয় । এটি জেলের ময়শ্চারাইজিং, অ্যান্টি-এজিং জন্য জমা করা যেতে পারে। একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার  আপনার সৌন্দর্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এলোভেরা জেল ত্বকে পানি ধরে রাখে, ফলে মুখ উজ্জ্বল দেখায়। শুষ্ক ত্বক এর কারনে ত্বকে বলিরেখা সৃষ্টি হয় যার ফলে অকালে বুড়িয়ে যায় ত্বক। এলোভেরা জেল ব্যবহারের ফলে ফিরে আসতে পারে আপনার ত্বকের সৌন্দর্য। অ্যালোভেরাতে প্রচুর পরিমাণে মিউকোপলিস্যাকারাইড রয়েছে, এটি একটি হাইড্রেটিং অণু যা ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, আরেকটি জনপ্রিয় ত্বকের যত্নের উপাদান যা ঘৃতকুমারী থেকে পাওয়া যায়। ঘৃতকুমারী ফাইব্রোব্লাস্ট সক্রিয় করে, যা কোলাজেন এবং ইলাস্টিন ফাইবার উৎপাদন করে। এগুলো চেহারায় আঁটসাঁট ত্বক এবং বলিরেখা কমায়। অ্যালোভেরা জেল এর ব্যবহার ত্বকের সব সমস্যা-ই দূর করতে আংশিক বা সম্পূর্ণ কার্যকর।

 

সূর্যরশ্মি উত্তাপ থেকে রক্ষা করে

সূর্যের আলোতে যারা কাজ করেন তাদের উপর সরাসরি সূর্যরশ্মি এসে পড়ে। এরকম সূর্যরশ্মিতে কাজ করা কিছু মানুষকে এলোভেরা জেল লাগিয়ে কাজ করতে গেলে তারা এই উত্তাপের মাঝেও ত্বকে শীতল অনুভব করেন। এছাড়া এটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। অতিবেগুনি রশ্মির কারনে ক্যান্সারের মতও রোগ পর্যন্ত হতে পারে। স্কিন ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের মতে, অ্যালোভেরা সাধারণত হালকা রোদে পোড়া দাগের জন্য ব্যবহার করা নিরাপদ এবং এটি স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

 

ক্ষত নিরাময় করতে

ঘৃতকুমারি শরীরে ক্ষত নিরাময় করতে পারে । এর রয়েছে এন্টি ইনফ্লামেটরি ও এন্টি ব্যাক্টেরিয়াল প্রোপার্টিজ যা ত্বকের ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে এবং আক্রান্ত স্থানে সংক্রমন হতে দেয় না।

 

চুলের যত্নে

চুলের অন্যতম একটি সমস্যা হলো খুশকি। যার কারনে চুল পড়াসহ নানা রকম সমস্যা হয়। নানা কারণে খুশকি হতে পারে। একটি তৈলাক্ত মাথার ত্বক, মৃত কোষ জমে, এমনকি  এটি সংক্রমণের কারণও হতে পারে। মাথার চুলে যত ধরনের সমস্যা হতে পারে তার সবগুলো সমস্যাই  অ্যালোভেরা কমাতে পারে। এটি আপনার মাথার ত্বকের  মৃত কোষগুলো দূর করে। এটিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং মাথার ত্বককে প্রশমিত রাখে। অ্যালোভেরার টপিকাল প্রয়োগ চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। মাথায় ব্যবহার করা বানিজ্যিক কৃত্রিম শ্যাম্পুর ফলে মাথায় পিএইচ এর মান পরিবর্তন হয় । এতে চুল পড়া, চুল এলোমেলো বা চুলের সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। এলোভেরা জেল মাথায় চুলের ভারসাম্য রক্ষা করে। এছাড়া যাদের মাথায় সোরিয়াসিস আছে তারাও এটি ব্যবহার করতে পারেন। ফলাফল নিজেই অনুভব করতে পারবেন। এলোভেরা দিয়ে চুলের যত্ন নিলে ক্ষতিকর ক্যামিকেলস এর ভয় থাকে না।

 

হজমশক্তি বাড়ায়

হজমশক্তি বাড়াতে এলোভেরার জুড়ি নেই। এখনো অনেক আয়ুর্বেদিক সিরাপে এলোভেরা দেয়া হয় হজমশক্তি বৃদ্ধি ও  আন্ত্রিক গোলযোগ নিরাময় করার জন্যে। এলোভেরার রসে অ্যানথ্রাকুইনোন গ্লাইকোসাইড থাকে। এগুলো রেচন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ফলে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর হয়। যদিও বিখ্যাত খাদ্য ও ঔষধ বিষয়ক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এলোভেরাকে ওটিসি হিসেবে অনুমোদন দেয়নি। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ এটি চিকিতস্কের পরামর্শ ছাড়াই গ্রহন করে। তবে কারও মধ্যেই উল্লেখযোগ্য কোনো পাশ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বরং যথেষ্ট উপকারিতার কথাই শুনা যায়। যারা দীর্ঘমেয়াদে আমাশয়, আইবিএস বা অন্য কোনো পেটের পীড়ায় ভুগছেন অনেক মেডিসিন খেয়েও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি তারা এই উপকারি ভেষজটি গ্রহন করতে পারেন।

 

রুপচর্চায় এলোভেরা

এলোভেরা দিয়ে রুপচর্চা করার প্রচলন অনেক পুরোনো। সৌন্দর্য এবং প্রসাধনী জগতে অ্যালোভেরা এক অনন্য নাম। এটি ময়েশ্চারাইজার, টোনার, শ্যাম্পু এবং ডিপ কন্ডিশনার সব কিছুতেই পাওয়া যায় । এর মধ্যে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এবং এতে  অপরিহার্য অনেকগুলো  অ্যামিনো অ্যাসিডের মধ্যে সাতটি রয়েছে যেগুলো ত্বক হাইড্রেটেড রাখে। 

 

হার্ট ভালো রাখতে এলোভেরা

এলোভেরা রক্তের উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে। যেসব কোলেস্টেরল মানবদেহের জন্যে ক্ষতিকর এলোভেরা সেসব কোলেস্টেরল কমায়। এসব ক্ষতিকর কোলেস্টেরল হার্টের ক্ষতি করে এবং হার্ট এটাকের অন্যতম কারন। এলোভেরা জুস খেলে হার্ট ভালো থাকে। এটি রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নিম্ন মাত্রার অক্সিজেন লেভেল মানুষের হার্ট ফেলিউর, শ্বাসকষ্টসহ হার্টের ব্যাধির অন্যতম কারন।  এছাড়া এই জুস শরীরের ক্লান্তি দূর করে। শরীর ও মনকে সতেজ রাখে।

 

এলোভেরা জুস যেভাবে বানাবেন

একটি অথবা দুইটি ঘৃতকুমারী পাতা নিয়ে তাঁর ভেতরের শাঁস গুলোকে প্রয়োজন মত পানিতে মেশান এর মধ্যে ইশুপগুলের ভূষি, তকমাই, গুড়, এক চামুচ মধু মিশিয়ে নিন তাহলেই হয়ে গেল আপনার কাঙ্খিত জুস।

 

বাসায় যেভাবে এলোভেরা গাছ লাগাবেন

এলোভেরার এত এত উপকারিতার জন্যে অনেকে বাসার বারান্ধায় কিংবা চাদে এলোভেরা চাষ পদ্ধতি অনুসরন করেন। বাসায় এলোভেরা গাছ লাগানো কঠিন কিছু নয়। অনেকে জানতে চান, এলোভেরা গাছের দাম কত? এলোভেরার একটি পাতা বিশ থেকে পঁচিশ টাকা । এলোভেরা বানিজ্যিকভাবে চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। তবে আপনারা হয়ত বাসায় বাড়িতে ছোট পরিসরে পরিবারের জন্যে এটি লাগাতে চান তাদের জন্যে ছোট্ট করে চাষ পদ্ধতি আলোচনা করা হলো।

এটি একটি রসালো উদ্ভিদ যা শুষ্ক, উষ্ণ জলবায়ু পছন্দ করে, তাই এটিকে প্রতিদিন জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুষ্ক পরিবেশ গাছটি পছন্দ করে। গাছটিতে যাতে বেশি জল না দেওয়া হয় সে বিষয়ে আপনার সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং আপনি যদি গাছটি বাইরে রাখেন তবে বৃষ্টি হলে এটি ঢেকে রাখতে ভুলবেন না। ঘৃতকুমারী গাছ এক থেকে দুই ফুট উঁচু এবং এক ফুট পর্যন্ত চওড়া হয়, গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুতে সবচেয়ে ভালো জন্মে। তবে আপনি সহজেই এটিকে একটি পাত্রে রেখে দিতে পারেন। সূর্যালোক একটি স্বাস্থ্যকর ঘৃতকুমারী গাছের জন্যে অপরিহার্য্য।তাই এটিকে বাইরে একটি রৌদ্রোজ্জ্বল স্থানে বা জানালার সিলে রাখতে পারেন। একটি পাত্রে আপনার ঘৃতকুমারী উদ্ভিদ রোপণ করার সময়, একটি অগভীর, চওড়া বাটি চয়ন করুন যাতে শিকড়গুলি নড়াচড়া করার এবং বৃদ্ধির সাথে সাথে ছড়িয়ে যাওয়ার জায়গা থাকে। গাছের গোড়ার চারপাশে নতুন বীজ গজাবে, যা আপনি নিতে পারেন এবং একটি নতুন পাত্রে রোপণ করতে পারেন। পরিপূর্ণ পরিচর্যার ফলে অল্প দিনের মধ্যেই আপনি খাওয়ার উপযোগী পাতা পাবেন। সঠিক ভাবে aloe vera গাছের যত্ন নিতে পারলে আপনি বাড়িতেই এটি বড় করে দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারবেন।

 

এলোভেরার কয়েকটি ফেইস প্যাক

মধু ও এলোভেরা জেল ১ঃ২ চামুচ মিশিয়ে একটি ফেইস প্যাক বানাতে পারেন, এখানে এলোভেরা হিসেবে জেল নিতে পারেন যেটি সরাসরি পাতার থেকে নিতে পারেন অথবা বাজার থেকে এলোভেরার জেল নিতে পারেন। অ্যালোভেরা জেল এর দাম ৫০টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন রেটে পাওয়া যায়। এটি আপনার ফেইসকে অনেক বেশি উজ্জ্বল ও দাগমুক্ত করে। 

এছাড়া কয়েক চামুচ অ্যালোভেরা জেল এর সাথে সামান্য গ্লিসারিন মিশিয়ে একটি ফেইসপ্যাক বানাতে পারেন। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক একটি প্যাক যেটি আপনার ত্বকের কোনো ক্ষতি করে না। মুখে এলোভেরা ব্যবহারের নিয়ম হলো তৈরিকৃত প্যাকটি মুখে কুড়ি মিনিটের মতো লাগিয়ে রাখুন এর পরে ধুয়ে ফেলুন। প্রত্যাশাতিত ফলাফল পাবেন। 

 

এলোভেরার পাশ্বপ্রতিক্রিয়া

বরাবরের মতো এসব অর্গানিক প্রোডাক্টগুলোর ব্যাপারে গবেষনা খুব বেশি উন্নত মানের নয়। আর অন্য সব গুলোর মতো এলোভেরারও কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। একজন পুষ্টিবিদ এলোভেরাকে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি বলেন এর অপরিমিত অ্যালোভেরার ব্যবহার আপনার সমস্যা বাড়িয়ে দিবে ও শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি করবে। 

এলোভেরার কয়েকটি অপকারিতাঃ

  • রক্তে শর্করার পরিমান অনেক বেশি কমে যাওয়া(হাইপোগ্লাইসেমিয়া)
  • ত্বকের জ্বালা এবং চুলকানি (কদাচিৎ)
  • পেটে ব্যথা এবং ক্র্যাম্প (উচ্চ মাত্রায় ব্যবহারের ফলে)
  • ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যা, প্রস্রাবে রক্ত, কম পটাসিয়াম, পেশী দুর্বলতা, ওজন হ্রাস এবং হার্টের ব্যাঘাত (উচ্চ মাত্রায় দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার করার কারনে)
  • লিভারের সমস্যা(এটি খুবই কম পাওয়া যায়)

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Main Menu