খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের বিখ্যাত ৪টি বই

খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের বিখ্যাত ৪টি বই

মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে বই। যে যত বেশি বই পড়ে তাঁর হৃদয় তত বেশি স্বচ্চ ও সুন্দর হয়। বই মানুষের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। আর ইসলামিক বই হলে তো কথাই নেই। মানুষের সার্বিক জীবন ব্যবস্থা ইসলামে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলামিক বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ এসব জ্ঞান লাভ করতে পারে। আজকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় আলোচক ও ইসলামিক স্কলার ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের লেখা ৪টি বিখ্যাত বই সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেবো।

 

আল ফিকহুল আকবর (বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা)

ইসলামের ইতিহাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর পরবর্তী সময়ে রচিত ইসলামিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল ফিকহুল আকবর। বইটি সারা পৃথিবীতে সমানভাবে জনপ্রিয়। এই বই এর লেখক হানাফি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানীফা রহঃ। তিনি একজন তাবেঈ ছিলেন । ফিকহ শাস্ত্রের জনক এই মহা পন্ডিত সারা বিশ্বের মুসলমানদের নিকট পরিচিত ব্যক্তিত্ব । ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে জ্ঞানীদের একজন আবু হানীফা রহঃ। তিনি প্রায় ৪হাজারেরও অধিক শিক্ষকের সান্নিধ্যে জ্ঞান অর্জন করেন। লক্ষ লক্ষ মাসয়ালা লিপিবদ্ধ করেন। এই বইটি তাঁর লেখা মুসলিম উম্মাহর জন্যে এক আশীর্বাদ। বইটি বাংলায় অনুবাদ করে আমাদের পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন গত দশকে গত হওয়া এদেশের প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। বইটি প্রকাশিত হয় আসসুন্নাহ পাবলিকেশন থেকে ২০১৪সালে। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫৪৩ ও আইএসবিএন নাম্বার 9789849005353। বইটির মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৪০০টাকা।

ইসলামি আইন, ফতুয়া ও ফিকহ শাস্ত্র বিষয়ক বই এটি। বই এর প্রথমদিকে ইমাম আবু হানিফার জীবনী আলোচনা করা হয়েছে। এরপর আরো কয়েকজন বিশেষ ব্যক্তির জীবনী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে মুসলিম উম্মাহর বিভ্রান্তি, বিভক্তি, ভ্রান্ত আকিদা বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের সমাজে তাওহীদ বিষয়ক অজ্ঞতা রয়েছে সাথে বেড়েছে শিরকের ব্যাপকতা । বইটিতে ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা আঃ এর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই বিষয়গুলোতে আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। লেখক বিষয়গুলো সুষ্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই বই পড়ার মাধ্যমে আমাদের মনে থাকা এসব সন্দিহানের অবসান হবে।

 

মুনাজাত ও নামাজ

বইটি খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের লেখা একটি বই। এটি ২০০৯ সালে আসসুন্নাহ পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয়। বইটি বাংলা ভাষায় লেখা একটি বই। মুনাজাত ও নামাজ বিষয়ক এই বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬৪। বইটির মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৫০টাকা। আমাদের সকলের পরিচিত খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের লেকচারার ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি বাংলা, ইংরেজি ও আরবীতে অনেকগুলো বই রচনা করেছেন। তাঁর লেখা প্রত্যেকটি বই বাংলাদেশসহ বিদেশেও বেশ জনপ্রিয়।

এই বইটিতে মূলত কিভাবে মুনাজাত করতে হয়, কখন মুনাজাত করতে হবে, কোন মুনাজাতের কি ফজিলত এই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে আমাদের সমাজে প্রচলিত কিছু মুনাজাত বিষয়ক বিতর্ক যেমন মুনাজাতে হাত তোলা যাবে কি যাবে না এই বিষয়গুলো। স্যার বিষয়গুলো সুক্ষ্ম ব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষের বিভ্রান্তি দূর করেছেন। বইটি পড়লে মুনাজাত বিষয়ক পরিপূর্ণ ধারনা আসবে ও বিতর্কগুলোর অবসান হবে।

 

মুসলমানী নেসাব : আরাকানে ইসলাম ও ওযীফায়ে রাসূল (সা.)

বইটি রাসূল সাঃ এর সুন্নাত ও শিষ্টাচার বিষয়ক একটি বই। এতে রাসূল সাঃ এর দেয়া শিক্ষা ও কর্মের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে আসসুন্নাহ পাবলিকেশন থেকে। এর আইএসবিএন নাম্বার 9789849328230। বাংলা ভাষায় রচিত এই বই এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৯২ এবং এর মূল্য ১৮০টাকা। 

বইটিতে ইসলামের আরকান আহকামগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের প্রিয়নবী সাঃ এর দৈনন্দিন অজিফা তুলে ধরা হয়েছে। আমরা জানি, হাদিস থেকে ফিকহী মাসয়ালা নির্ণয়ে ইমামগনের মতভেদ আছে। সেজন্যে এই বইটিতে কেবল নির্ভরযোগ্য হাদিসসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সমাজে মাজহাবের নামে অনেক কুসংস্কার, ভুল বিভ্রান্তির প্রচলন রয়েছে যে বিষয়গুলো ইমামগন উল্লেখ করেননি লেখক সেই বিষয়গুলোই তুলে ধরেছেন। বইটি সকল শ্রেনী পেশার মানুষের জন্যে লেখা হয়েছে। ইমাম, আকিদা ও আমলের জন্যে বইটি বিখ্যাত। 

 

পবিত্র বাইবেল : পরিচিতি ও পর্যালোচনা

এই বইটি খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের লেখা একটি বই। একজন মুসলিম হয়েও অন্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থ নিয়ে বই লেখার মতো লেখক গত কয়েক দশক থেকে এদেশের ইতিহাসে দেখা যায়নি। এদিক থেকে বুঝা যায় তিনি কত বড় মাপের একজন লেখক। বইটি সম্পর্কে অনেকের মনে হতে পারে, তিনি কি করে অন্য ধর্মের গ্রন্থ নিয়ে লিখলেন। খ্রীষ্টানদের সাথে তাঁর কোনো যোগ সাজোস আছে কিনা। আসলে তারা জানেন না স্যার একটি ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ছিলেন। তিনি ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। যারা এই বিষয়টি পড়ান তাদের অবশ্যই তুলনামূলক ধর্মত্তত্ব নিয়ে পড়াতে হয়। আর তখনই প্রয়োজন পড়ে আন্তঃ ধর্ম বিষয়ে জানার। বর্তমান পৃথিবী ডিজিটালাইজ হওয়ার সাথে সাথে ধর্মগুলো কাছাকাছি এসেছে, ফলে বেড়েছে আন্ত ধর্মীয় বিতর্ক। যতোপযুক্ত জবাব ও জ্ঞান না থাকলে মুসলিমদের তাদের কাছে যুক্তিতে হারতে হবে। এসব বিষয় ভেবেই স্যারের এই বইটি লেখা। বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে আসসুন্নাহ পাবলিকেশন থেকে। এর আইএসবিএন নাম্বার 9789849005377 ও পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭৪৩। বইটির মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৬০০টাকা। 

গত শতাব্দীর শেষদিক থেকে খ্রীষ্টান ধর্মযাজকরা আমাদের দেশে খ্রীষ্টান ধর্মের প্রচার শুরু করেন। এক্ষেত্রে তারা মোহম্মদ সাঃ ছাড়া অন্য নবীদের গুরুত্ব তাদের গ্রন্থগুলো সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাদের মতে, শুধু মোহম্মদ সাঃ এর মাধ্যমে পৃথীবিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তো পাঠক বিষয়গুলোতে আপনি জবাব দিতে গেলে আপনাকে অবশ্যই আন্ত ধর্মীয় জ্ঞানে পারদর্শি হতে হবে। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সর্বোত্তম পদ্ধতি ছাড়া বিতর্ক করতে নিষেধ করেছেন। এছাড়া আরো এরশাদ হয় যে, আল্লাহ ছাড়া যাদের তারা ডাকে তাদের বিষয়ে যেন কটূক্তি করা না হয়। পাঠক বুঝাই যাচ্ছে, ভিন্ন ধর্মীদের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্যে আপনার কতটা প্রজ্ঞাবান জরুরী। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Main Menu