ইযহারুল হক (১ম-৩য় খণ্ড) একসাথে

ইযহারুল হক (১ম-৩য় খণ্ড) একসাথে

এদেশে ইসলাম এসেছে হাজার বছরেরও আগে। এরপর থেকে তা চর্চা হয়ে আসছে আজ পর্যন্ত। দিক দিগন্ত পাড়ি দিয়ে ইসলাম পৌছে গেছে পৃথিবীর সব প্রান্তে । প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মিথ্যার উপর সত্যের জয়। আর এই জয়ে যারা অবদান রেখেছেন, আমরা তাদের সব সময়ই শ্রদ্ধাভরে স্মরন করি। আল্লাহ পাকের পয়গম্বর বিশ্ব মানবতার কান্ডারি প্রিয়নবী সাঃ এর ইহকাল ত্যাগের পর ইসলামের উপর যেসব আঘাত আসে সব আঘাতই সমসাময়িক ইসলামিক পন্ডিতগন প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন তরবারী দিয়ে কিংবা কলম দিয়ে । তাদে সবাই আমাদের হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে থাকবেন। আজকে আমরা তাদেরই একজন মাওলানা রহমুতুল্লাহ কিরানভী এর  ইযহারুক হক (১ম-৩য় খণ্ড) গ্রন্থটি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব।

 

ইযহারুল হক (১ম-৩য় খণ্ড) 

গ্রন্তটির রচয়িতা বিখ্যাত আলেম মাওলানা রহমুতুল্লাহ কিরানভী । গ্রন্থটি বাংলা অনুবাদ করেছেন ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর। গ্রন্তটি সম্পর্কে বলার আগে মূল লেখকের সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক।

আল্লামা রহমুতুল্লাহ কিরানভী ১৮১৮ খ্রীস্টাব্দের ভারতের কিরান নামক গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ছিলেন ইসলামের খলিফা ও রাসূল সাঃ এর জামাতা হযরত উসমান রাঃ এর বংশধর। তাঁর সপ্তম পিতামহ আব্দুল করিম মোঘল সম্রাট আকবরের চিকিৎসা করে একটি দূরারোগ্য ব্যাধি ভালো করতে পেরেছিলেন। এজন্যে সম্রাট খুশী হয়ে তাকে কিরান গ্রামে অনেক ধন সম্পত্তি দেন। এরপর থেকে তারা বংশপরম্পরায় এই অঞ্চলে বসবাস করতে থাকেন। 

১৮৫৭সালের ইংরেজরা ভারতীয় আলেম ওলামাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে তিনি ভারত ত্যাগ করে মক্কায় চলে যান। সেখানে তাঁর পরিচয় জানার পর আরবের লোকেরা তাকে সাদরে গ্রহন করেন। ততকালীন সময়ে আরবে শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল ছিলো। প্রকৃত অর্থে সেখানে কোনো মাদ্রাসাই ছিল না। মাওলানা কিরানভী প্রথম সেখানে মাদ্রসা গড়ে তোলেন।

এই বইটি রচনার প্রেক্ষাপট অনেকটা এরকম যে, ১৮২৯ সালে একজন খ্রীস্ট ধর্মের প্রচারক মিঃ পান্ডার তাঁর ধর্মের প্রচারে মীযানুল হক( Scale of Truth) নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি চ্যালেঞ্জ করেন এই গ্রন্থের মোকাবেলা করা কোনো মুসলিম আলেমের পক্ষে সম্ভব না। তখন তাঁর এই মিথ্যাচারের জবাব দেন মাওলানা রহমুতুল্লাহ ইযহারুক হক গ্রন্থটি রচনার মাধ্যমে। প্রকাশ্য মঞ্চে মিঃ পান্ডার মাওলানা রহমুতুল্লাহর কাছে হেরে যান। এতে ভারতে তাঁর মর্যাদা কমে যায়। পরে মিঃ পান্ডারকে তুরুষ্কে পাঠানো হয়। তিনি সেখানেও তাঁর এই মিথ্যাচার অব্যাহত রাখে। ইস্তাম্বুলের সুলতান তখন তার সাথে বিতর্ক করার জন্যে মক্কা থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথী করে মাওলানা রহমুতুল্লাহকে নিয়ে যান, তখন মিঃ পান্ডার আল্লামা রহমুতুল্লাহ সেখানে পৌছানোর কথা শুনেই পালিয়ে যান। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন সমসাময়িক যুগশ্রেষ্ঠ আলেম । ইসলামের জন্যে তাঁর ত্যাগ আজীবন মনে রাখবে ভারত উপমহাদেশের মানুষ। তাঁর এই গ্রন্থটি আসসুন্নাহ পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি পড়লে ততকালীন এসব ঘটনাগুলো ও ইসলামের এই বিজয় সম্পর্কে ভালোভাবে জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Main Menu